
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এক শিক্ষার্থীকে ‘নারীঘটিত’ অভিযোগে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে হল সংসদের কয়েকজন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ তারিখ) ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে হল সংসদের কয়েকজন প্রতিনিধি শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। এ সময় তারা ক্যামেরা অন করে ভিডিও ধারণ করেন এবং কক্ষে নারী থাকার অভিযোগ তোলেন। তবে তল্লাশিতে ওই কক্ষে কোনো নারী পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আলিম মৃধা জানান, “আমরা রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে হঠাৎ দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে দরজা খুললে হল সংসদের এজিএস ইসরাফিলসহ কয়েকজন ভেতরে ঢুকে বলেন, তাদের কাছে তথ্য আছে—এই রুমে নারী রয়েছে। আমরা বারবার জানতে চাইলেও তারা স্পষ্ট কিছু না বলে তল্লাশি শুরু করেন। পরে কোনো কিছু না পেয়ে চলে যান।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর সকালে ক্যাম্পাসজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে আমি ও আমার রুমমেট নারী নিয়ে রাত্রীযাপন করেছি। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ায় আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হল প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।
দাবিগুলো হলো:
১. নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত হলের নির্বাচিত ভিপি মোজ্জাম্মেলের পদত্যাগ ও আবাসিকতা বাতিল।
২. অভিযুক্ত এজিএসসহ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ ও আবাসিকতা বাতিল।
৩. প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে ক্ষমা প্রার্থনা।
তারা জানান, দাবি মানা না হলে শহীদ জিয়াউর হল ছাত্র সংসদ বিলুপ্তির দাবি তোলা হবে।
এ বিষয়ে হল প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
















