
আশিক ইসলাম,বাগমারা (রাজশাহী): বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। আর পুকুর খননের নামে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে কৃষি জমি উর্বর মাটি। এতে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাক্টরযোগে মাটি পরিবহণের কারণে নষ্ট হচ্ছে পাকা রাস্তা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক কর্মকর্তাসহ তাহেরপুর পৌর এলাকার আরিফ হোসেন এবং গোয়াকান্দি ইউনিয়নের প্রভাবশালী হাসনাত, স্থানীয় আ.লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, মুনছুর রহমান ও পারভেজ আলীর নেতৃত্বে বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। সূত্রমতে, গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের জলপাইতলা মোড়ের পাশে প্রজেক্টের নামে একটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। রামরামা গ্রামের কৃষক আমীর আলীর জমিতে বর্তমানে ওই প্রজেক্টের কাজ চলছে। পুকুর খনন চক্রের মুল হোতা হাসনাত এবং জিল্লুর, মুনছুর ও পারভেজ আলীর নেতৃত্বে পনের লাখ টাকায় কন্ট্রাক নিয়ে ওই কৃষকের জমিতে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুকুর খননের নামে প্রজেক্টের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া একই ইউনিয়নের বাগবাজারের পাশে তেলিপুকুর গ্রামের মুনছুর বাগ নামে এক কৃষকের জমিতেও পুকুর খননের কাজ চলছে। তিন লাখ টাকায় পুকুর খনন চক্রের আরেক মুল হোতা আরিফ ওই কৃষকের জমি কন্ট্রাক নিয়েছেন। কিন্তু পুকুর খননের নামে জমির উর্বর মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে ওই কৃষক স্বীকার করেছেন। এদিকে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমোতি ছাড়াই গোয়ালকান্দি, গণিপুর, ঝিকরা, মাড়িয়া, গোবিন্দপাড়া, নরদাশ, শুভডাঙ্গা ও সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রজেক্টের নামে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে তিন ফসলি কৃষি জমির উর্বর মাটি ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। পাকা সড়কের ধারে প্রজেক্টের নামে এসব পুকুর খননের মাটি ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় ও অন্যত্র পরিবহণের সময় মাটি পড়ে পাকা রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপর পড়ে থাকা ধূলামাটি কাঁদামাটিতে পরিণত হয়ে বাড়ছে দূর্ঘটনা। শুক্রবার সকালে বৃষ্টির পর বাগবাজার থেকে হামিকুৎসা বাজারে চলাচলের সময় প্রায় অর্ধশতাধিক বাইকার দূর্ঘটনার শিকার হয়। এতে আহত হয়ে সুমন ও শাহীন আলমসহ ছয়জন বাইকার চালক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত মোট ২১টি এক্সেভেটর (ভেকু) ভেঙ্গে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
















