| |

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: জোড়াতালিতে চলছে মেডিকেল সেন্টার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের অনেকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে ভরসা রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে জোড়াতালি দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারসহ সেন্টারটিতে চিকিৎসকের ৩৬টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসক আছেন মাত্র ২০ জন। নাক-কান-গলা, মনোরোগ, অর্থোপেডিক ও গাইনোকলজি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই।

মেডিকেল সেন্টার সূত্র জানায়, দুজন পুরুষসহ নার্সের ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র দুজন। তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ। তিনি ছুটিতে গেলে কার্যত একজন নার্স দিয়েই সেবা কার্যক্রম চালাতে হবে। এতে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিতে আরও চাপ তৈরি হবে।

সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৩৫০ শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন। যার ফলে আমাদের ওপর চাপ একটু বেশিই থাকে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে রাতে নার্সও রাখতে পারি না, চিকিৎসকও থাকেন না।

ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, ‘সিস্টার বা ব্রাদার না থাকলে রোগীদের প্রাথমিক সেবা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। প্রেশার মাপা, জ্বর পরীক্ষা করা, ড্রেসিং করা, ভ্যাকসিন বা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া—এসব কাজের জন্য তাঁদের থাকা অপরিহার্য।’

জনবলসংকটের প্রভাব পড়েছে কারিগরি সেবাতেও। ইসিজি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য দপ্তরের একজনকে দিয়ে সেবাটি চালু রাখা হয়েছে। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি পরিচালনার জন্য টেকনোলজিস্ট নেই।

প্রধান চিকিৎসক বলেন, ‘ইসিজি সেবার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। বর্তমানে একজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনোভাবে কাজটি চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

অ্যাম্বুলেন্স সংকটেও দীর্ঘদিন ভুগেছে মেডিকেল সেন্টারটি। আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রশাসন মেডিকেল সেন্টারের জন্য দুটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চালক ও জনবল নেই।

ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, ‘এখানে শুধু গাড়ির সংকট নয়, চালকের সংকটও আছে। নতুন করে চালক নিয়োগ না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দ ৮০ লাখ টাকা। তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘রাবি মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীপ্রতি যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে।’

অনিয়মের অভিযোগ

গত বছরের ১৭ জুলাই চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে এর নাম ‘নাপা সেন্টার’ রাখেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এটি নামমাত্র মেডিকেল সেন্টারে পরিণত হয়েছে। দু-এক ধরনের ওষুধ ছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় একই ধরনের ওষুধ দেওয়ারও অভিযোগ তাঁদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি চুলকানির জন্য মেডিকেলে গেলে কোনো কিছু না শুনেই আগে থেকে তৈরি করা প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেওয়া হয়।’

অভিযোগটি স্বীকার করে প্রধান চিকিৎসক বলেন, ‘জনবলসংকট থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে আগে থেকে প্রেসক্রিপশন প্রস্তুত করে রাখা হয়।’

এদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনী ইশতেহারেও। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

এ বিষয়ে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের জন্য ইউজিসিতে একটি বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। যতটুকু শুনেছি, সেই বরাদ্দের বিল ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। শিগগির মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের কাজের জন্য আমরা বরাদ্দটি পেয়ে যাব।’

এদিকে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে জনবল নিয়োগের সার্কুলার দেওয়া হবে।

রাজশাহী নিউজ টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হাইলাইটস

সাম্প্রতিক

সম্পাদক: জিয়াউল কবীর স্বপন
বার্তা সম্পাদক: মো. মেহেদী হাসান রাজ
ঠিকানা: সাহেব বাজার, ঘোড়ামারা, রাজশাহী।

জিমেল: rajshahinewstv@gmail.com

Copyright © 2025 RajshahiNewsTV. All rights reserved. Developed by CITNBD