
আশিক ইসলাম,বাগমারা প্রতিনিধিঃ
বাগমারায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলিপ কুমার এনজিও’র সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দিয়ে এক কৃষকের বসতবাড়ির জমি দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভবানীগঞ্জ পৌরসভার হিন্দুপাড়ার কৃষক নরেন চন্দ্র দাস ও দিলিপ কুমার এবং তাদের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার সরজমিনে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার হিন্দুপাড়ায় কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন ভবানীগঞ্জ মৌজায় ১৪১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৬১ নম্বর দাগে এক শতক বসতবাড়ির জমির দখল নিয়ে কৃষক নরেন চন্দ্র দাসের সঙ্গে প্রতিবেশি স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিলিপ কুমারের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই ওই জমি ক্রয় সূত্রে মালিক বলে দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে থানা ও আদালতে পালটাপালটি মামলাও চলছে। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ওই জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। নরেন চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, দিলিপ কুমার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাড়াটিয়া কিছু লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভেঙ্গে দেয় এবং বিভিন্ন প্রজাতীর ১৫টি গাছ কেটে ফেলে। এরপর ওই জমির চারদিকে টিন দিয়ে ঘিরে “ভরশার আলো’’ নামে একটি এনজিও’র সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দিয়ে স্থাপনা নির্মানের কাজ শুরু করেছে। এতে বাঁধা দিতে গেলে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এই ঘটনায় তিনি দিলিপ কুমারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অপরদিকে দিলিপ কুমার দাবি করেন, নরেন চন্দ্র দাসের একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে তদন্ত করে ওই জমির দলিল মূলে তিনি (দিলিপ কুমার) বৈধ মালিক মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এরপর তিনি ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করলে নরেন চন্দ্র দাস বাঁধা দেওয়া বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন- আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে কেউ প্রবেশ করতে পারে না মর্মে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। অথচ সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে এক পক্ষ স্থাপনা নির্মান কাজ শুরু করায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পালটাপালটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।














