
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মুন্ডুমালা পৌরসভার উদ্যোগে এক ব্যাপক ও সুশৃঙ্খল ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুধীজন, আলেম-উলামা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী উপজেলা–তানোর উপজেলা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক কামরুজ্জামান, কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ জালাল উদ্দিন, তানোর উপজেলা আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেন এবং এনসিপির রাজশাহী মহানগরের সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আতিকুর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রমজান মাসের তাৎপর্য, রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রমজান তাকওয়া অর্জনের মাস, আত্মশুদ্ধির মাস এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য সুযোগ। রোজা মানুষের ভেতরে ধৈর্য, সংযম, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে রমজানের শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠন সম্ভব।
তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় মজুদদারি, অতিরিক্ত মুনাফা ও অসাধু ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিহার করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন,রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনে ধারণ করার পাশাপাশি সমাজসেবা, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইফতার পূর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও নৈতিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















