
আমির হামজা, পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক যুবকের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া আরও দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (০৭ জুলাই ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুঠিয়া উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. মনোয়ার হোসেন (২৮)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম (২১), আমিনুল ইসলাম (২৩), তাদের বাবা নবী হোসেন এবং হাবিবুর (৩৮)সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও কাঠের লাঠি দিয়ে মনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন।
স্থানীয় সূত্র ও আহত মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাজিম উদ্দিনের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে প্রতিবেশী নবী হোসেনদের বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তার কিছু অংশ নিজেদের সীমানার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করে দ্বিতীয় পক্ষ। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নাজিম উদ্দিনের বাড়ির মাটির সিঁড়ি কেটে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম কুড়াল দিয়ে নাজিম উদ্দিনকে আঘাত করার চেষ্টা করলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন নাজিম উদ্দিনের ভাতিজি সুরমা খাতুন (২৭)। এ সময় তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে একই দিন দুপুরে চাকরিস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নয়াপাড়া বাগানে মোড় এলাকায় পৌঁছালে মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্তদের আবারও বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম কাঠের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাথার বাম পাশে পাঁচটি সেলাই দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্যরা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।