
স্টাফ রিপোর্টার:১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহীন শওকত।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে বাগমারা উপজেলা ও ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
শাহীন শওকত বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত যে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছে সে বিষয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে সমস্যা কোথায়? জাতি চাইলেই তাদের ক্ষমা করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় গোলাম আজমের নির্দেশে এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছিলো তারা। এই গণহত্যার দায় ছাত্রশিবিরও নিচ্ছে। কিন্তু তারা কেন নিজেদের জড়াচ্ছে, শিবির তো ৭১ সালের পরের প্রজন্ম। তোমাদের তো তেমন কোনো দোষ নাই। যদিও তোমরা মাঝে মধ্যে রগ কাটো।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আগামী ২৬’র ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে এক জামায়াত চার ধরনের কথা বলছে। জামায়াতের আমির বলছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিলে ভালো হয়, আবার অন্য নেতা কেউ বলছেন জুনে নির্বাচন হলে সমস্যা নেই, আবার আরেকজন বলছে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে সমস্যা নেই। নির্বাচন নিয়ে এক জামায়াতের চার কথা।
বিএনপি নেতা বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারা হয়েছিল। আবু সাঈদ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, সাকিব আঞ্জুম, আলী রায়হানরা নিজের বুক পেতে স্বৈরাচার বিদায় করেছেন। আমরা যেন তাদের আত্মত্যাগকে ভুলে না যাই।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে শাহীন শওকত বলেন, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে তিনি ভারতে পালিয়ে ছোট্ট এক ঘরে অবস্থান করছেন। আমরা চাই তিনি শত শত বছর জীবিত থেকে অসংখ্য কোমলমতি সন্তানদের ছোট্ট ঘরে আটকে রেখে যে নির্যাতন করেছে সেটার অনুভূতি পায়। এক পর্যায়ে তিনি যেন আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, আমি আর এই ছোট্ট ঘরে থাকতে চাই না। আল্লাহ আমাকে মৃত্যু দাও।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, উদ্বোধক ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিশেষ বক্তা ছিলেন বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিএম জিয়াউর রহমান জিয়া৷
রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, গোলাম মোস্তফা মামুন, তোফায়েল হোসেন রাজু, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বল্টু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান স্বজন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ডিকো, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট শামজাদ জাহান মিতালী, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তোতা, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকার, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি কুতুব উদ্দিন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক এম মুইন খাঁন, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাবেক সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব প্রমুখ।
















