
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
মনোনয়ন ফরম উত্তোলন শেষে উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন,“আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আমি আমার দায়িত্বশীল পথচলা শুরু করলাম। দাড়িপাল্লা প্রতীকে মনোনয়ন তুলতে পেরে আমি গর্বিত ও আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞ।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় তিনি আরও বলেন,“এই আসনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই পারেন—এটি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পবা ও মোহনপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। ইনশাআল্লাহ, তারা দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।”
ভোটের পরিবেশ ও জনগণের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মানুষের ভোটের প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ ঘটবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ, কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে পবা ও মোহনপুরে সর্বাগ্রে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করব। আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। জনগণের জান-মাল ও সম্মান রক্ষায় আমি আপসহীন ভূমিকা পালন করব।”
আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় সুনিশ্চিত উল্লেখ করে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা আর দুর্নীতি ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতি দেখতে চায় না। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা আশাবাদী—রাজশাহী-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় ইনশাআল্লাহ সুনিশ্চিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং মানুষের কল্যাণের জন্য। দাড়িপাল্লা প্রতীক মানেই ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনের প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ যদি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, তাহলে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।”
এ সময় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও রাজশাহী রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, “অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ একজন সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান মানুষ। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সমাজসেবায় তাঁর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। পবা ও মোহনপুরের জনগণ এমন একজন নেতৃত্বই প্রত্যাশা করে, যিনি কথা ও কাজে一থাকবেন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগর শাখার প্রশিক্ষণ সেক্রেটারি হাফেজ মো. নুরুজ্জামান এবং উপাধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল। তাঁরা বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নৈতিক নেতৃত্ব ও সুশাসনের বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সেই বিকল্প নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় পবা ও মোহনপুর উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়ন ফরম উত্তোলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। নেতারা জানান, তফসিল অনুযায়ী আগামী দিনের সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে তাদের মূল উদ্দেশ্য।