
রাজশাহী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
রাজশাহী: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহীর উন্নয়ন করা হবে। জনগণ ও বিএনপির নির্বাচিত চারজন সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী নাগরিক কমিটি আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যারাই বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রায় ১৬টি প্রতিষ্ঠান জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে নিয়ে তিনি রাজশাহীর সন্তান হিসেবে নগরী ও দেশের উন্নয়নে কাজ করবেন। একই সঙ্গে রাজশাহী মহানগরীকে একটি সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বিএনপির আমলে রাজশাহীতে গ্যাস লাইন স্থাপন ও চালু করা হয়েছিল। পুনরায় গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজশাহীতে সিল্ক একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এ শিল্পের প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রাজশাহীতে একটি ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেমন সারা দেশের উন্নয়ন করা হবে, তেমনি এর আলোকে রাজশাহীরও উন্নয়ন করা হবে। প্রতি সপ্তাহে রাজশাহীতে এসে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করার আশ্বাস দেন তিনি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, তিনি চান না তাঁর মধ্যে কোন অহংকার না আসুক—‘আমি’ বা ‘আমার’ মনোভাব যেন সব সময় ঠিক থাকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বিশেষ করে যুবসমাজকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কম্পিউটার প্রযুক্তি ও আইটি খাতকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিজেও সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস করেন এবং ছুটির দিনেও কাজ করেন বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৭ বছরে রাজশাহী অনেক পিছিয়ে গেছে। জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ সব পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। একসময় রাজশাহী বিশ্বব্যাপী ‘হ্যাপি সিটি’ হিসেবে মধ্যম ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাজ করতে গেলে ভুল হতেই পারে। কেউ তাঁর ভুল ধরিয়ে দিলে তিনি সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন। যারা ভুল ধরিয়ে দেবেন, তারাই প্রকৃত বন্ধু এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি ভূমিমন্ত্রীর কাছে দুটি দাবি উত্থাপন করেন—রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু এবং একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা।
সভায় রাজশাহী নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর এম. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, ডা. ওয়াসিম হোসেন, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদি, অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী, প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান ও প্রফেসর ড. ফৌজিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর আক্তার হোসেন।
এর আগে, নগরীর আরেকটি কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
















