
বাগমারা প্রতিনিধিঃ রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটের মাঠে দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনের মোট আয়তন ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। বিশাল ভোটার সংখ্যা ও বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসরের কারণে এই আসনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি বাগমারা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতিকে পুঁজি করে তিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ডা. আব্দুল বারী। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং নৈতিক ভাবমূর্তি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। শান্ত, সংযত ও সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগভিত্তিক প্রচারণার কারণে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন।
অতীতে এই আসনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব করেছে। তবে বর্তমান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রয়েছে। ফলে এবারের ভোটে মূল প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ মনোনয়নকেন্দ্রিক বিভাজন নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একক ও নির্ধারিত প্রার্থী ঘোষণা করায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঐক্য ও সাংগঠনিক দৃঢ়তা।