
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অন্তর্ভুক্ত, শালবাগান এলাকায় গ্যান্ডিং মেশিন স্থাপন ও রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদ ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ হিল কাফীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত অভিযোগে মোসাঃ ইসমত আরা জানান, গত ২৭ নভেম্বর দুপুরে তার দোকানের সামনের রাস্তা দখল করে নিয়মিত গ্যান্ডিং মেশিন চালু রাখছিলেন বিবাদীরা। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতি হওয়ায় কাজ বন্ধ করতে অনুরোধ করলে ২ নম্বর বিবাদী তার স্বামী নজরুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এক পর্যায়ে হেলমেট দিয়ে সজোরে নজরুল ইসলামের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফুলে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার পরও বিবাদীরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এ সময় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি আশপাশের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী দেখেছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে দলীয় পরিচয় ও প্রভাবকে পুঁজি করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন আবুল কালাম আজাদ। দোকানের সামনে দলীয় নেতার ছবি টাঙ্গিয়ে, প্রকাশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানো ছিল নিত্যদিনের আচরণ। ৫ ই আগস্টের পরে অনেক ফ্যাসিস্ট লীগের নেতা আত্মগোপনে গেলেও তিনি এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং এলাকায় অসামাজিক কার্যক্রম ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান—হামলার পুরো ঘটনাটি পাশের একটি দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। তারপরও বিবাদীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় ভুক্তভোগী পরিবারসহ প্রত্যক্ষদশিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি —অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সকল তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শালবাগান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজ, দোষীদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার এর দাবি জানিয়েছেন।


