লিয়াকত আলী বাবলু: মহাদেবপুরের প্রত্যন্ত পল্লীতে জন্মগ্রহণকারী কর্মবীর আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন মাস্টারের দাফন সম্পন্ন হল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। ১৯৫০ সালে উপজেলার প্রত্যন্তপল্লী হাতুর ইউনিয়নের পালাহার ( দেপতাকুড়ি)গ্রামের মৃত দিদার উদ্দিন মন্ডল এবং গফিরণ বিবির কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন গিয়াস উদ্দিন মাস্টার। মালাহার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে বদলগাছি উপজেলার ভাদশাইল
উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করেন এবং ১৯৭২ সালে নওগা ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন তিনি। এর আগে এইচএসসি পাশ করেই বেলকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। নওগাঁ ডিগ্রী কলেজে পড়ার সময় তিনি চিন্তা করেন হাতুড় ইউনিয়নের হিন্দু পল্লীতে একটি হাই স্কুল হওয়া জরুরী এবং তিনি বিএ পাস করার সাথে সাথেই গাহুলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে তিনি প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি হাতুর ইউনিয়ন পরিষদ , হাতুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মালাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,গাহুলি পোস্ট অফিস ,বেলকুনি পোস্ট অফিস বেলকুড়ি কলেজ সহ এলাকার অসংখ্য রাস্তাঘাট ব্রীজ কালভার্ট পয়- নিষ্কাশন ব্যবস্থায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে।
এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এলাকায় যখন যে দলের এমপি হয়েছেন এলাকার স্বার্থে সংসদ সদস্যের সাথে মিশে থেকে তাঁর সহযোগিতা নিয়ে কাজগুলি হাসিল করার কারণে অনেক ধরনের কথাও শুনতে হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। নিন্দুকদের কথায় কর্ণপাত না করে কাজ পাগল মানুষটি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এলাকার উন্নয়নের চিন্তাভাবনা করেছেন।
২২ জুলাই মঙ্গলবার ভোররাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলহাজ্ব গিয়স উদ্দিন মাস্টার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে আজ সন্ধ্যার আগে তার গ্রামের বাড়ি মালাহার( দেপতাকুড়িতে) মহাদেবপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় । উল্লেখ্য যে, আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন মাস্টার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হলো। তার যানাযার নামাজের সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্বাস আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাকাব্বের ,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল ,বাবলা আনসারী, সাইদুর রহমান, হাসেম উদ্দিন, হাতুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক , সহ হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।