
দলের এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হয়ে সশ্রদ্ধ সালাম এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে নিয়ে আলোচনা করতে যেয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, সব সময়তেই আমাদের হৃদয়ে এখন একটা বেদনার সুর বাজছে। আমরা যে নেত্রী জন্য আজকে আলোচনা করছি তিনি ত্যাগের মহিমায় আলোক বর্তিত হয়েছেন। আপনারা জানেন তার জন্ম হয়েছিল ১৯৪৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বাংলার রাখাল রাজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে। বিয়ে বয়স যখন পাঁচ বছর তখন ১৯৬৫ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটা যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন ভারতের বিপক্ষে। সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যুদ্ধে গেলে ফ্যামিলি মেম্বারদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া মাত্র ২০ বছর বয়স থেকেই সংসার জীবনে নানা টেনশনের মধ্যে দিগয়ে কাটিয়েছেন। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধেও সময় মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা দেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তাহলে তিনি দেশদ্রোহী হন। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখান থেকে বেগম জিয়া তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট আটক হন।
এসময়ে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানী এক অফিসারকে ফোন করে বলেছিলেন আমি জানি আমার স্ত্রী এবং সন্তানেরা আপনাদের কাছে আটক আছে। যদি তাদের কোন অমর্যাদা হয় তাহলে আপনাদেরকে ক্ষমা করা হবেনা বলে হঁমিয়ারী দেন তিনি। আটক অবস্থা থেকে তিনি নিজেকে তৈরী করেছিলেন। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পরে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বেরাচার এরশাদকে বিতারিথ করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে। এরপরন ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন।
জীবন দশায় বেগম জিয়া সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি নারী শিক্ষা ও নারীদের স্বাবলম্বী করতে নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। নারীদের ক্ষমতায়িত করতে তিনি অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছিরেন। শুধু তাইনয় তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা চালু করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি বিলুপ্তি করে প্রধানমন্ত্রী প্রথা চালু করেছিলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র করলে জনগণ মেনে নেবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ দীর্ঘ সতের বছর ভোটারগণ ভোট দিতে পারেননি। পতিত সরকার একতরফা ও আমি ডামি নির্বাচন করে ক্ষমতা আকড়ে ধরে রেখেছিলো। খুনি হাসিনা জনগণের উপরে জগদ্দল পাথরের ন্যায় বুকের উপরে চেপে বসেছিলেন। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী ভেবেই নিয়েছিলেন তিনি আর ক্ষমতা থেকে হটবেন না। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচেন।
তিনি আরো বলেন, খুনি হাসিনা তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রেখে তিলে তিলে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। জেলের মধ্যে স্লোপয়জোনিং করা হয়েছিলো। তাঁকে সঠিকভাবে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। বিদেশে নিতে দেয়া হয়নি। যখন তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেন তখন আর ভালো কিছু করার ছিলোনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। এভাবেই তিনি পর্যায়ক্রমে অসুস্থ হতে থাকেন। তাঁর শেষ পরিণতি হয় ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ।
বেগম জিয়ার কারনে তিনি আজকে বিএনপি মনোণীত প্রার্থী হতে পেরেছেন উল্লেখ করে তিনি বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে পবার হুজুরীপাড়া এলাকাবাসীর আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন। সদস্য সচিব মোজাহার আলী সঞ্চালনায় মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র ও নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শেক মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন, সুলতার আহমেদ, আব্দুস সালাম, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক কনক, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল করিম, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোজাহিদ ও যুগ্ম অহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন।
আরো উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম সোহেল রানা, সদস্য মাজদার রহমান, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, নওহাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রহমানসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহোযাগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ।
এদিকে একই বিষয় নিয়ে মোহনপুর গার্লস কলেজে এবং পবার দাদপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে এডভোকেট শফিকুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।