
গণতন্ত্রের মানষকন্যা, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর আশু রোগমুক্তি কামনায় দেশ-বিদেশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয়তা দেশবাসী গভীরভাবে অনুভব করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
সোমবার বিকেলে মোহনপুরের মোহনপুরের মৌগাছি বাজারে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৈগাছী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিলন বলেন, “আজ সারা দেশের মানুষ এক হয়ে দোয়া করছে। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হচ্ছে। প্রকৃত অর্থেই তিনি প্রতিটি মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন, কারণ তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেশকে ভালোবেসেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “দেশকে ভালোবাসার কারণে তিনি নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন। আরেক সন্তান এখনো দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, দেশে ফিরতে পারছেন না। তবুও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে মিলন বলেন, “জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেন। পরবর্তীতে তাঁকে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়। এরপরও বেগম খালেদা জিয়া পিছু হটেননি। তিনি ঘরের চার দেয়াল ভেঙে রাজনীতির হাল ধরেছেন।”
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সে সময় বেগম জিয়া ও তাঁর দুই সন্তানকে আটক করা হয়। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন—পুরো দেশবাসীই তাঁর সন্তান। তাদের ফেলে তিনি কোথাও যাবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারী সরকার যখন তাঁকে নিজ বাসভবন থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিল, তখনও তিনি বলেছিলেন—এই দেশই তাঁর একমাত্র ঠিকানা। বিদেশে তাঁর কোনো বাড়ি নেই। এই দেশেই তিনি আজীবন থাকবেন।”
সমসাময়িক প্রসঙ্গে বক্তব্যে মিলন বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তব্য শেষে দোয়া মাহফিলের মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত শরিফ ওসমান হাদির সুস্থতা কামনা করা হয়।
মৌগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরের আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম (মুন), সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, মৈগাছী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলীসহ মোহনপুর উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।