
আশিক ইসলাম,বাগমারা: বাগমারায় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে কৃষকের তিন ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খাজুর করখন্ড গ্রামের ভূক্তভোগী কৃষক রেজাউল করিম শেষ। এছাড়া রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পৃথকভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের শালজোড় মৌজায় কৃষক রেজাউল করিম শেখের ভোগ দখলীয় ০.৫০ একর তিন ফসলী কৃষি জমি রয়েছে। ওই জমিতে চাষাবাদ করে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি গোবিন্দপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিজন সরকারের ছোট ভাই এলাকার প্রভাবশালী বিপন সরকার মিঠু, হাটগাঙ্গোপাড়া ডিগ্রী কলেজের সহকারি অধ্যাপক বিধান সরকার, শালজোড় গ্রামের সাইদুর রহমান, কল্যান কুমার ও ডাক্তার রিমন খান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কৃষক রেজাউল করিমের তিন ফসলী ওই জমিতে জোরপূর্বক ভেকু দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি কেটে পুকুর খনন করছেন। ওই পুকুর খননের মাটি ট্রাক্টরযোগে ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিজন সরকারের ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পুকুর খনন চক্র এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী রেজাউল করিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এদিকে পুকুর খনন চক্রের এক নেতা জানান, প্রশাসন এবং থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে ম্যানেজ করেই তাদের পুকুর খনন করতে হচ্ছে। কারণ প্রশাসন এবং থানা ও ফাঁড়িকে ম্যানেজ না করলে ভেকু ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে ভেকুর চাবি কেড়ে নিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পুকুরের আয়তন অনুয়ায়ী দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
এ বিষয়ে থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, পুকুর খননের অনুমোতি দেয়া বা না দেয়ার দায়িত্ব থানার নয়। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদ জানান, তিনি বাগমারায় যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত কাউকেই পুকুর খননের অনুমতি দেননি।