
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পুঠিয়ায় একই দিনে দুই গ্রামে, দুই বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগা বাড়ি দুটি হলো উপজেলার পুর্ব ধোপাপাড়া গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন এর ছেলে শরিফুল ইসলাম ও একই উপজেলার বিলমাড়িয়া পুর্ব পাড়ার হিন্দুপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম এর স্ত্রী হাজেরা বেগমের বাড়ি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার সময় বিলমাড়িয়া ও ভোর সাড়ে ৫ টার সময় ধোপাপাড়ায় ওই আগুনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় মানুষ সুত্রে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ধোপাপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের বাসায় মা-বোনকে রেখে বহু দিন ধরে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। ঢাকায় কাজ করে সে অর্থ দিয়ে বাসায় টিভি ফ্রিজ ও আসবাবপত্র কেনেন শরিফুল। সেদিন মা বোন সহ কেউ ছিল না বাসায়। বুধবার ভোর রাতে তার বাসায় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটলে তার বাড়ির সব কিছু পুড়ে যায়। এমনকি দুইটি ইটের ঘর আগুনের তাপে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলছেন জীবনে যা অর্জন করেছিলেন সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিলে, দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে শরিফুলের বাড়ি-সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এছাড়াও একই রাতের রান্নাঘর হতে আগুনের ঘটনা ঘটে উপজেলার বিলমাড়িয়ায়। হাজেরা বেগমের খড়ের বাড়ি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস এর কাছে ফোন দেওয়ার সময় পায়নি, ততক্ষণে সবকিছু পড়ে শেষ হয়ে যায়। সেখানে হতদরিদ্র সাইফুল ইসলামের স্ত্রী, হাজেরা বেগম অনেক কষ্ট করে একটি গরু পালন করেছিলেন। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে সেই গরুটির শরীরের প্রায় তিন ভাগের, এক ভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়াও গরুটি বাঁচবে কিনা সেটি নিয়েও রয়েছে আশঙ্কা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাজেরা বেগম বলেন, আমার জীবনের সব শেষ হয়ে গেছে আমারা কিছু রইল না। আমি এখন কিভাবে চলব সেটাও জানিনা। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়া আরেকজন ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি গার্মেন্টসে কাজ করে যে টাকা পয়সা পাই সে টাকা-পয়সা দিয়ে বাড়ির যায়-জিনিস এবং এটা সেটা কিনে রাখি। ভেবেছিলাম ঢাকায় থাকতে আর ভালো লাগেনা, কিছুদিনের মধ্যে বাসায় যাব। কিন্তু আমার জীবনের সব অর্জন একরাতে নস্যাৎ হয়ে গেল। আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।














