
রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে চলছে রক্তের হলিখেলা। এর আগে কাকন বাহিনীর হাতে চারজন গুলিবিদ্ধের ঘটনায় দু’জন মারা যাওয়ার পর গতকাল শনিবার (৩জানুয়ারী) রাতে নতুন করে সোহেল নামে আরো একজনকে খুন করা হয়েছে।এ ঘটনায় অত্র এলাকার জনগনের মাঝে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, গত বছরের (২৮ অক্টোবর)ডাবল মার্ডারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে উঠেন কাকন বাহিনী। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় কাকনকে প্রধান আসামী করে ২৩ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আমানের পিতা মিনহাজ মন্ডল । এই হত্যায় জড়িতদের বিচার ও ফাঁসিব দাবিতে গত (৩১ অক্টবর-২০২৫) বাঘা উপজেলঅর খানপুর বাজারে মানববন্ধন করেন গুলিবিদ্ধ চারজনের পরিবার-সহ অত্র এলাকাবাসী।
এদিকে উক্ত ঘটনার জের কাটতে-না কাটতে শনিবার (৩ জানুয়ারী)গভির রাতে বাঘার গড়গড়ি ইউনিয়নের পলাশী ফতেপুর এলাকার করালি নোওসারা গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে সোহেল (৪০) ঘুমন্ত অবস্থায় কাঁকন বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নদীপথে স্পিডবোট চালিয়ে এসে বাড়ির বাহির থেকে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে-ছুড়তে তার বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। এরপর ঘুমন্ত সোহেলের শরীরে এলো পাথাড়িগুলি ছুড়ে। অত:পর সোহেল মারা গেছে জেনে তারা সেখান থেকে সটকে পড়েন। উক্ত ঘটনায় তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম আহত হন। পরক্ষনে স্থানীয়রা-সহ পরিবারের লোকজন সোহেলকে রাত দেড়টাই স্থানীয় বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমাইরা বেগম তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে বাঘার খানপুর বাজারে কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ মানব বন্ধনে দাঁড়িয়ে মিনহাজ মন্ডল বলেন, কাকন বাহিনী ও তাদের লোকজন প্রকাশ্যে দিবালকে নদী পথে স্পিডবোটে চড়ে অস্ত্র নিয়ে মহাড়া দিচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এসব হত্যাকারীদের গ্রেফতার-সহ আইনের আওতাই এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
অপর একজন মাহাবুল আলম বলেন, কাকন বাহিনীর ফসল লুটের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছর পিস্তলের গুলিতে গুরুত্বর আহত হয়েছিল খানপুর গ্রামের সাহাবুল ইসলাম। তাকে ঢাকায় চিকিৎসা করানো হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর পদ্মা চরের একমাত্র আতঙ্ক এখন কাঁকন বাহিনী। চরের জমি ও বালি মহল দখল, চাঁদাবাজি আর হামলার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তিন জেলার তিন উপজেলার মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত বাঘা উপডজেলার চরাঞ্চলবাসী। গত সোমবার এ উপজেলার খানপুর পদ্মা নদীর পাশে জমি এবং খড় দখলকে কেন্দ্র করে গুলি চালিয়েছে কাকন বাহিনী। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হলেও ঘটনার দিন নিহত হন আমান এবং নাজমুল । আপর দু’জন আহতরা হলেন,মুনতাজ এবং রাকিব।
এদিকে উক্ত মানববন্ধনের পর নাটোর,কুষ্টিয়া এবং রাজশাহী জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ দল যৌথ অভিযান চারিয়ে ঐ ঘটনার এক সপ্তাহ পর প্রায় ১৫ জনকে আটক করেন। তবে কাকন থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে।
এ বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক জানান, রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
















