
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে স্ট্রবেরি চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দিন দিন এই ফলচাষের দিকে ঝুঁকছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা দরে। বর্তমানে মৌসুমের মধ্যভাগে এসে এর দাম কিছুটা কমে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ কমেনি।
চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম স্ট্রবেরি চাষ করে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি আশা করছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ লাখ টাকায় তার উৎপাদিত স্ট্রবেরি বিক্রি করতে পারবেন।
আব্দুল হাকিম বলেন, স্ট্রবেরি চাষে রোগবালাই তুলনামূলকভাবে কম এবং বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকায় এটি একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আমাদের সহায়তা করেন এবং সময়ে সময়ে মাঠে এসে ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে স্ট্রবেরি চাষ করে আসছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, চারঘাট উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। চারঘাট থেকে রাজশাহীসহ আশপাশের অন্যান্য শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্ট্রবেরি একটি পচনশীল ফসল। সকালে ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করার পর এক দিনের মধ্যেই তা বিক্রি করতে হয়, নতুবা ফল নষ্ট হতে শুরু করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই কৃষকরা নতুন ও অর্থকরী ফসল চাষে এগিয়ে আসুক, যাতে তারা আর্থিকভাবে সফল হতে পারে। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চারঘাটের মাটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী—এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
কৃষি বিভাগ মনে করছে, যথাযথ পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে চারঘাট উপজেলায় স্ট্রবেরি চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং এতে কৃষকদের আয় বাড়বে।
















