
স্টাফ রিপোর্টার:
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলার আম গাছে প্রায় ৮৫ শতাংশ মুকুল এসেছে এবং ৫৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলায় উৎপাদিত আমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মণভোগ জাতের আম, যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ শতাংশ। এছাড়া আশিনা জাতের আম ১৪ শতাংশ, হিমসাগর ১২ শতাংশ এবং অন্যান্য জাতের আম মিলিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন হয়।
সরেজমিনে বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রায় প্রতিটি গাছই মুকুলে ভরে উঠেছে। এমন মনোরম দৃশ্য কৃষকদের মুখে আশার হাসি ফুটিয়েছে এবং ভালো ফলনের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে মুখে হাসি থাকলেও কৃষকদের মনে রয়েছে কিছুটা দুশ্চিন্তা। কারণ গত দুই বছর ধরে দেশের বাইরে আম রপ্তানি বন্ধ থাকায় চাষিরা হতাশ। দেশের বাজারেও অনেক সময় ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক আম বাগান কেটে ফেলেছেন বলে জানান তারা।
উপজেলার মোক্তারপুর এলাকার আম চাষি মাহাবুব রহমান জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। শীতকালেও তেমন কুয়াশা পড়েনি। এ কারণে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে কুয়াশার কারণে মুকুল নষ্ট হতে পারেনি। যদি আবহাওয়া এভাবে অনুকূলে থাকে, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি। তবে ভরা মৌসুমে অনেক সময় আমের দাম কমে যায়, তখন আমাদের লোকসান গুনতে হয়।
স্থানীয় আম ব্যবসায়ী সুমন বলেন, চারঘাটের আম খুবই সুস্বাদু। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় আম পাঠানো হয়। তবে গত দুই বছর ধরে বিদেশে আম রপ্তানি করতে না পারায় স্থানীয় বাজারে দাম কমে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে এবং তেমন বৃষ্টিপাতও হয়নি। ফলে চারঘাট অঞ্চলে আমের ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। নিম্নমানের আমের দাম কম হওয়ায় এখন অনেক কৃষক উন্নত জাতের আমের গাছ রোপণ করছেন। পাশাপাশি রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন হাসান বলেন, এ বছরের আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমাদের অনুকূলে রয়েছে। এভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আম উৎপাদন সম্ভব। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছি এবং গাছের পরিচর্যা, কীটনাশক ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছি।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে চারঘাটে আমের বাম্পার ফলন হবে।