
মোঃ শফিকুল ইসলাম (চারঘাট, রাজশাহী): রাজশাহী চারঘাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় অনিয়ম অব্যবস্থাপনাই প্রাথমিক শিক্ষার মান ভেঙ্গে পড়েছে। এ উপজেলায় ৭৩ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যার মধ্যে ৩৭ টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পথ শূন্য থাকায় বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মান নিম্নগামী হচ্ছে। এর কারণে অনেক শিক্ষার্থী কেজি স্কুল, ব্র্যাক ও মাদ্রাসা মুখী হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের বাধ্যতামূলক শিক্ষার কার্যক্রম ভেস্তে যাচ্ছে। শিক্ষকের অবহেলা, স্কুলে সময় মত না আসা, ক্লাস রুমে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা ইত্যাদি ভাবে সময় ব্যয় করছে এর মূল কারণ সরকারি কোন নজরদারি না থাকাই বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান অসহনীয় হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় দাপটে চাকরি করছে তার যখন ইচ্ছা তখন স্কুলে প্রবেশ করছে এতে দেখার কেউ নেই, যেন মনে হয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে।এই উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভায় ৭৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্য ৩৭ টি প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য রয়েছে। সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের মূল লক্ষ্য হলেও কতিপয় সহকারি শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা অনিয়ম ও অবহেলার কারণেই কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। উল্লেখ্য যে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু পিয়ন শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেই শিক্ষকরা আরো বেশি সুবিধা করছে।সৌরজমের গিয়ে দেখা যায় স্কুলগুলোতে অবহেলা অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুলোতে উপযুক্ত পাঠদান ব্যর্থতা অনিয়মিত উপস্থিত দায়িত্ব হীনতায় প্রাথমিক শিক্ষার চরম দুরঅবস্থা। অনেক দিন যাবৎ শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারণে অনেক শিক্ষক মেনে নিতে পারছে না যার কারণে শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকাই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে।
উপজেলার বাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর অভিভাবক মনিরুল ইসলাম সহ আরো অনেকেই জানান, শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিন হাতের লিখা ও পড়া আদায় করার নিয়ম থাকলেও এসব কিছুই হচ্ছে না অনেক সময় পড়াগুলো আগের যেটা পড়া সেটাই করে আসতে বলেন, ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের লিখা পড়া মনোযোগ কমে যাচ্ছে।অনেক সময় প্রধান শিক্ষক অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকলে ঠিকমতো ক্লাস নিতে চায় না সরকারি শিক্ষকরা, অবহেলায় মোবাইল ফোন আসক্ত হয়ে থাকে, ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু লিখতে বলে শিক্ষকরা ইচ্ছামত ক্লাসে মোবাইল ফোনে ভিডিও গান দেখতে থাকে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছে মত যাওয়া আসা করে থাকেন।এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষকরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মদদপৃষ্ঠে অবহেলায় পরিণত হয়েছে আমি কিছুদিন আগে কয়েক জন শিক্ষককে শোকজ করেছি এবং ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন অনিয়ম থাকলে সেটা তদন্ত করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃণমূল গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষকের অবহেলা অনিয়ম এর কথা জানতে চাওয়া হলে প্রতিবেদক কে জানান, সদর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় ভিজিট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে তবে আমি সহ তিনজন এ, টি, ও কাজ করছি মাসে একদিন স্কুলে ভিজিট দিতে পারি এতে করে সঠিক মত পরিদর্শন করা সম্ভব হয়না।


