
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় নিখোঁজের চার দিন পর আব্দুল কুদ্দুস (৩২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সোনাবাজু এলাকার তুলসি নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত আব্দুল কুদ্দুস গুরুদাসপুর উপজেলার পাটপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিবার জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল কুদ্দুস। যাওয়ার সময় স্ত্রীকে জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যার দিকে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে আব্দুল কুদ্দুস ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন। এরপর আবার ফোন দেওয়া হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন থেকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত এলাকায় খোঁজ চালানো হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
রোববার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তুলসি নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করে নিশ্চিত করেন যে, সেটি নিখোঁজ আব্দুল কুদ্দুসেরই লাশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তুলসি নদীপাড় সংলগ্ন বসতিতে মুসা নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। সম্প্রতি তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল কুদ্দুস ওই এলাকায় যাতায়াত করতেন। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।