
জিয়াউল কবীর: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার (৭নং দেওপাড়া) ইউনিয়নের যুগিডাঙ্গা ও ঈদুল পুর এলাকায় গভীর রাতে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। রাত নামলেই ভেকু ও ডাম্পারের ভারী শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয় এলাকা বাসীর অভিযোগ প্রশাসনের নীরবতা এবং তদারকি না থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগসাজস করে টাকা লেনদেনের চুক্তিতে ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হাই টুনুর নেতৃত্বে তার বড় ছেলে জনি সরকার ও স্থানীয় মাস্তান পরশ, ডলার, রনি, ডিনার,সুজন , সোহেল, মুন্না, দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ মাটি কাটার কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে জমির মালিকগন জানান । মাটিকাটা কোনভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না ।সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার পর নিকটবর্তী ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এক্সক্যাভেটর ও ডাম্পার ব্যবহার করে মাটি কাটে।
একাধিকবার গোদাগাড়ী ইউনোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পদক্ষেপ নিব বলে বাস্তবে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না বলে ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ। এ নিয়ে গ্রামবাসীদের অনেক ক্ষোভ বিরাজমান। স্বৈরাচার আমলেও যা হতো তা এখনও হচ্ছে। তাহলে দেশের পরিবর্তন কিসে? ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা রাত্রে ঘুমাইতে পারে না গাড়ির বিকট শব্দে। চিকন সরু রাস্তা দিয়ে এত বড় বড় গাড়ি চলার কারণে রাস্তা গুলাও ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে । এগুলা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় কি ?যেখানে ইউনো নিজেই নিজেই চুপচাপ । রাস্তার পাসের বসতবাড়িতে ফাটল দেখা যাচ্ছে ও রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে ।পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়ছে।
কৃষকরা বলছেন, বছরের পর বছর যে জমিতে চাষাবাদ করে তাঁরা পরিবার চালিয়েছেন, সেই জমি এখন ধ্বংসের মুখে। বারবার অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। “দিনে নিয়ম-কানুনের কথা শোনা যায়, রাতে সব নিয়ম উধাও”—এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী মৌসুমে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বাস্তব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
















