
আশিক, বাগমারা (রাজশাহী)
পুলিশের দায়িত্ব মানেই শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়—প্রকৃতি ও পরিচ্ছন্নতার প্রতিও যে সমান দায়িত্ববোধ থাকতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহীর বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি বদলে দিয়েছেন বাগমারা থানার চিরচেনা পরিবেশ। অবহেলিত ও অপরিচ্ছন্ন থানা চত্বর এখন পরিণত হয়েছে সবুজে ঘেরা পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন এক পরিবেশে।
শনিবার সকালে দেখা যায়, থানার প্রধান ফটকের সামনে নিজ হাতে ফুলের গাছের পরিচর্যা করছেন ওসি জিল্লুর রহমান। পাশে ছিলেন থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। তাদের নিয়ে প্রতিদিনই তিনি পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পুলিশ সদস্যরা জানান, যোগদানের পর থেকেই তিনি থানার ভেতর ও চারপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, আগাছা অপসারণ এবং দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা গাছপালার পরিচর্যার উদ্যোগ নেন। তার তদারকিতে থানার ফলজ ও বনজ গাছগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন গাছে এবার পর্যাপ্ত ফলও এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জানান, আগে থানার পরিবেশ ছিল অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। মশা-মাছি, আগাছা আর সাপের আতঙ্কে ভোগান্তিতে ছিলেন সেবাপ্রার্থীরা। এখন সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে—থানায় ঢুকলেই চোখে পড়ে সবুজ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার নতুন রূপ।
বানইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “ওসি জিল্লুর রহমান শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, পরিবেশ উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এদিকে সম্প্রতি গভীর নলকূপের মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রযুক্তির সহায়তায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করে বাগমারা থানা পুলিশ। এতে স্থানীয়দের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওসি জিল্লুর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিচ্ছন্নতা ও গাছপালার প্রতি আগ্রহী। সেই ভালোবাসা থেকেই থানাকে একটি সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব স্থানে রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি।
১৯৯৩ সালে ক্যাডেট এসআই হিসেবে পুলিশে যোগদানের পর তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিআইডি ও র্যাবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছেন ওসি জিল্লুর রহমান।